জীবন যুদ্ধে রাশেদের ব্যারিস্টার হওয়ার গল্প

200

নিউজবিডিইউএস:
জীবনের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, যেখানে সকল শারীরিক দূর্বলতা দূরে ঢেলে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য আক্রান্ত হলেও ইচ্ছা শক্তিতে পিছু হটেনি। পরিশ্রম, প্রবল ইচ্ছা শক্তি, ধৈর্য আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পেয়েছেন আইন পেশার অন্যতম স্বীকৃত বার-এট-ল তথা ব্যারিস্টার।

বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে মাস্টার্স (এলএলএম) সাবেক শিক্ষার্থী মো. রাশেদের কথা। শিক্ষা জীবন শেষের পর থেকেই দীর্ঘ সাত বছর ধরে দুরারোগ্য রিউমাটয়েড আর্থাইটিস রোগে ভুগছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের এই মেধাবী শিক্ষার্থী। সেই থেকেই মানসিক শক্তি জড়ো করে ব্যারিস্টারি পড়ালেখা শুরু করেন। নানান রোগ ও বাধা পেরিয়ে সেই রাশেদ খান এখন ব্যারিস্টার।

ব্যারিস্টার হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে পাড়ি জমান ব্রিটেনে। বসবাস শুরু করেন হ্যালিফেক্সে। ওই রোগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন স্থানীয় ডাক্তার থেকে। ব্যাধিকে জয় করে হার না মেনে কর্ম, সংসারজীবন এবং পড়লেখা একসাথে চালিয়ে ২০১৯ সালে যুগোপৎ বার-এট-ল এবং মাস্টার্স (এলএলএম) ডিগ্রী শেষ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কোভিড পরিস্থিতির কারণে ‘কল টু দ্যা বার’ স্থগিত থাকার মাঝেই গত বছরের অক্টোবরে আক্রান্ত হন করোনাভাইরাসে। ডাক্তাররা তার পরিবারকে জানিয়ে দেন একমাত্র সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ ছাড়া বাঁচানো যাবে না রাশেদকে। হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা চলে দীর্ঘ চার মাস। সে সময় দুইমাস লাইফ সাপোর্ট থেকে আল্লাহর অশেষ কৃপায় ফিরে আসেন তিনি। এখনো পূর্ণ সুস্থতার জন্য চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এভাবেই হাজারো প্রতিকূলতাকে জয় করে অবশেষে যুক্তারাজ্যের লিংকন্স ইন থেকে বার-এট-ল তথা ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃত হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের গর্ব আইনজীবী মো: রাশেদ খান।

ঠাকুরগাঁওয়ের ইসলামবাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: ইসাহাক আলী খান ও রাশিদা বেগমের একমাত্র ছেলে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুচিকিৎসা বিভাগের প্রফেসর ড. ইসমত আরা বেগম ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহিনা পারভিনের একমাত্র ভাই এবং রংপুর, মিঠাপুকুর, গোপালপুর, জানকীপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহিদুল হক ও রাজিয়া হকের জৈষ্ঠ জামাতা ব্যারিস্টার মো: রাশেদ খান। তার স্ত্রী সাবিহা সুলতানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন এবং ছেলে রাফিখান ও মেয়ে জারা খান যুক্তরাজ্যে যথাক্রমে অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।

২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী শেষ করে রাশেদ ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। পরবর্তীতে তিনি ২০১০ সালে তার কর্মজীবনে ব্যারিস্টারি পড়ালেখা শুরু করেন। দুর্ভাগ্যবশত তার এই ডিগ্রী অর্জনের পথে প্রায় দীর্ঘ সাতটি বছর জটিল, দুরারোগ্য ও প্রাণঘাতী ব্যাধিতে ভুগেন। কিন্তু ব্যাধি তাকে হার মানাতে পারেনি। তিনি ব্যাধিকে জয় করে হার না মেনে কর্ম, সংসারজীবন ও পড়লেখা একসাথে চালিয়ে গেছেন। থমকে গিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

অবশেষে তার প্রচেষ্টা মহা পুরস্কার নিয়ে এসেছে। পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না তিনি তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিখ্যাত লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুনরায় আইন বিষয়ে গ্রাজুয়েশন ও নর্থাম্ব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও বিপিটিসি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। সম্প্রতি গত ১২ অক্টোবর মো: রাশেদ খান যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য লিংকন্স ইন কর্তৃক ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

তার এই দুর্গম যাত্রায় পরিবার তথা তার দুই সন্তান, স্ত্রী, বাবা-মা, তিন বোন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধরা সর্বদা তার পাশে থেকেছেন এবং তাকে উৎসাহ দিয়েছে। এজন্য তিনি নয়া দিগন্তের মাধ্যমে সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন পেশাজীবী ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত হয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাশেদ খান বলেন, জনগণের কল্যাণে ও আল্লাহর রাস্তায় দাওয়াতি কাজে তার বাকি জীবন কাটাতে চান তিনি। পাশাপাশি তিনি আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়া দুস্থ-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য বিনা খরচে আইনগত সহযোগিতার হাত বাড়াতে চান। নিজের জীবন মানব কল্যাণে যেন ব্যয় করতে পারেন সেজন্য সকলের দোয়া কামনা করেছেন মো: রাশেদ খান।

তিনি জানান, সুস্থ হলেই দেশে ফিরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও আদালতে প্রক্টিসের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টেও প্রাক্টিস করতে চায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.