প্রধানমন্ত্রী বললে বিনা দোষে ফাঁসিতেও ঝুলতে রাজি: মেয়র জাহাঙ্গীর

16

ক্ষমা চেয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, মহানগর আওয়ামী লীগের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম তার বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই অনুরোধ জানান।

মেয়র বলেন, গাজীপুর মহানগরীতে আওয়ামী লীগকে একটি শক্ত ভেতরে ওপর দাঁড় করিয়েছি। গাজীপুরকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে তৈরি করেছি।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকে কিছু লোক আমাকে মারার জন্য এবং বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য পেছনে সব সময় লেগেছিল। যারা ঘরের ভেতরে এসে অডিও রেকর্ড করতে পারে, তারা মানুষ হত্যা করতে পারে।

জাহাঙ্গীর বলেন, আমার অস্তিত্ব ও প্রাণের মধ্যে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমার অভিভাবক হিসেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা আমি মাথা পেতে নেব। তিনি যদি আমাকে বিনা দোষে, বিনা কারণে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে বলেন, আমি তা করতে রাজি আছি’ যোগ করেন তিনি।

মেয়র আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভুল ও আংশিক তথ্য দিয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়েছিলাম আমার কথা বলার জন্য। করোনার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারিনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেখা করে যদি আমার কথাগুলো বলতে পারতাম, তাহলে তিনি সঠিক কথাগুলো জানতেন। উনার কাছে সঠিক তথ্য গেলে আমি সত্য ও ন্যায়বিচার অবশ্যই পেতাম। আমার ভুল হতে পারে, আমি কোনো পাপ ও অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নই।

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমাকে তিন বছরের জন্য পদ দেওয়া হয়েছে। আমাকে বহিষ্কার করে আমার এবং আমার পরিবারের অস্তিত্বের মধ্যে আঘাত দেওয়া হয়েছে। সেটা আমি মানসিকভাবে মেনে নিতে পার ছিনা।’

তিনি বলেন, ‘সে জন্য আমার মায়ের স্থান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন করবো- এই গাজীপুরবাসীর জন্য এবং আমার জন্য আমার ভুলের ক্ষমা চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন আমাকে পুনরায় বিবেচনা করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যেন বিবেচনা করে।’

মেয়র বলেন, ‘আমাকে পদ দেওয়া হোক আর না হোক আমি আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে থাকতে চাই। যে দিন আমার বুঝ হয়েছে, সে দিন থেকে আমি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে যদি মনে হয় গ্রেপ্তার করবেন; বঙ্গবন্ধুর জন্য, আওয়ামী লীগের জন্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য যদি আমার জীবন দিতে হয়, আমাকে বলবেন আমি আত্মসমর্পণ করবো।’

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমাকে যেন কোনো মিথ্যার সঙ্গে জড়িত না করা হয়। আমার পক্ষ থেকে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করবো না। আমাকে ফাঁসি দেওয়া হোক বঙ্গবন্ধুর জন্য, আমার নেত্রীর জন্য, আওয়ামী লীগের জন্য; তাতে আমার কিছু আসে যায় না। কিন্তু মিথ্যা অপবাদ যেন না দেওয়া হয়।’

এর আগে সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী নগরীর ছয়দানাস্থ মেয়রের বাসভবনে সামনে জড়ো হতে থাকেন। তারা মেয়রের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন।

বেলা ১টার দিকে মেয়র নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে ভবনের নিচতলায় নেমে আসলে নেতাকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুরো বাড়িজুড়ে কান্নার রোল পড়ে যায়। এ সময় মেয়রও আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে মেয়রের ছোট ভাই ও মা মেয়রকে সান্ত্বনা দিয়ে বাসার ওপরে নিয়ে যান।

পরে মেয়র সাংবাদিকদের অনুরোধে বাসার নিচে নেমে এসে তার বহিষ্কার সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.