বন্ধ (!)  সোশ্যাল নেটওয়ার্ক —সমকালীন ভাবনা

338

 

অতি সম্প্রতি আমাদের দেশে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহারে সরকার সাময়িক বিরতি আরোপিত করেছে, সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে জনসাধারনের নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার এমন স্বিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে উদ্ভুত কিছু পরিস্থিতির কারনে।

 

২০০০ সাল পরবর্তী গত দেড় যুগে ডিজিটাল যোগাযোগের উন্নয়ন, ধারন, বাহন ও ব্যবহার বেড়ে চলেছে এক বিস্বয়কর গতিতে। “ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী”– বিশ্ব যেন আজ সত্যি-ই হাতের মুঠোয়। বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক উন্নয়নের আংশিক ভোক্তা হিসেবে বাংলাদেশের আপামর জনগণ ও তার সুফল (এবং কুফল দুই-ই) ভোগ করা শুরু করেছে, ১৯৫০এর দশকে কম্পিউটার আবিস্কারের পর হতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য  ও ফ্রান্স একনিষ্ট ভাবে অনেকটা একত্রিত হয়ে কাজ করতে শুরু করল সেসময়ের কম্পিউটার প্রযুক্তিকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসার প্র্তয়ে। বলা বাহূল্য ১৯৬০ এর দশকে প্রথম আবিস্কৃত হয়েছিল ইন্টারনেট-এর মিনিয়া-চার ভার্সন। তখন তার নাম ছিল আরপানেট। সেই তো শুরু হলো ডিজিটাল বিশ্ব গড়া  আর ডিজিটাল যোগাযোগ এর মাধ্যম হিসেবে আমরা ফেইসবুক ব্যবহার কারী হলাম ১০০ কোটির ও বেশি যারা ছড়িয়ে আছি বিশ্বময়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলতে গেলে বলা চলে বাঙালিরা ফেইসবুক ব্যবহার করছেন কয়েক বছর ধরে, কিন্তু এর জনপ্রিয়তা যেমন দিন দিন বেড়ে চলছে তেমনি আস্তে আস্তে তার উপর নির্ভরতা ও সত্যিই লক্ষ্য করার মত। ফেইসবুক ছাড়া ও টুইটার, হুআত্স-এপ, ভাইবার ও অনেক জনপ্রিয় আজকের বিশ্বে। সময়মত এগুলো যেমন পাশ কাটিয়ে জায়গা করে নিয়েছে এক-কালের জনপ্রিয় ইয়াহু মেসেঞ্জার কিংবা গুগল প্লাস এর মত স্মার্ট আপ্লিকেশন গুলোর ও উপরে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশে ও এসবের ব্যবহার চলছে সমান তালে।

 

আজকের বিষয়বস্তু হল, সরকার কেন এত জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমগুলো সাময়িক বন্ধ রাখার স্বিদ্ধান্ত নিল, তাতে লাভ বা ক্ষতির সম্ভাবনাই বা কী ? আর লাভ হলে কাদের লাভ হল , ক্ষতি হলেই বা কার হল ?

 

প্রিয় পাঠক, আগেই বলেছি ইন্টারনেট-এর আবিষ্কারক কিংবা সামাজিক মাধ্যম আপ্লিকেশন গুলোর আবিষ্কারক সব-ই কিন্তু উন্নত দেশগুলো তথা যুক্তরাষ্ট, ইউরোপ, চীন অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদির বিচক্ষণ এবং পন্ডিত ব্যক্তি-গোষ্ঠীরা। তাদের এসব কালজয়ী সৃষ্টি কিন্তু বন্ধ করে দেয়ার জন্য সৃষ্টি করেননি, বরং তা থেকে কী ভাবে বেশি বেশি উপকার পাওয়া যায় তার জন্য তারা আজো নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, তাহলে কেন এসব বন্ধ করে দেয়া হয়, হচ্ছে ও হবে?

উত্তর পেতে গেলে, একটু পিছনে যাওয়া দরকার:

 

ভিয়েতনাম :

নভেম্বর ২০০৯ সালে ভিয়েতনামের জনগন ফেইসবুক বন্ধ পেয়েছে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত , কারন অনুসন্ধান করে জানা গেল, ভিয়েতনাম সরকার নির্দেশেই গোপনে ফেইসবুক সহ সকল সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ, ভিয়েতনাম সরকার তা স্বীকার করার সৎ সাহস পর্যন্ত দেখাতে পারে নাই, উপরন্তু তারা আইন করে সে সময়কার বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আলোচনা, লেখা-লেখি, পত্রিকায় প্রকাশ সহ এ সম্পর্কিত সব ধরনের প্রকাশনা নিষিদ্ধ করে।

 

সিরিয়া :

২০০৭ সাল হতে সিরিয়া-তে ফেইসবুক ও অন্যান্য সামাজিক নেটওয়ার্ক অফিসিয়ালি বন্ধ, যদিও তাদের জনগন বিভিন্ন উপায়ে তার ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছেন, আমরা সবাই জানি সিরিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাস, সেগুলোর বিশদ আলোচনা এখানে মনে হয় কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক বটে।

 

চীন:

চীন “গ্রেট ফায়ার-ওয়াল অফ চায়না” নামে সমগ্র চীন ব্যাপী অফিসিয়াল সেন্সরশিপ আর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে সেই ২০০৬ সাল থেকে, এক্কেবারে বিশ্ববাসী কে জানান দিয়েই , অনেকেই হয়ত জানেন “গুগল আমেরিকা”এখনো সেখানে চার্চ ইঞ্জিন হিসেবে চীনা জনগণ  ব্যবহার করতে পারেন না, তাদের রিজনাল জুরিক-ডিক্সন এ সমস্ত সোসাল নেটওয়ার্ক চায়না সরকারের নজরদারি-তে, তারা এখনো নিয়মিত অপছন্দের পোস্ট মূছে দেয় নেটওয়ার্ক থেকে। কিন্তু ব্যবসা বানিজ্যের সুবিধার্থে তারা তাদের “মুক্ত বানিজ্য” জোনের এলাকা গুলোতে ফেইসবুক ও অন্যান্য নেটওয়ার্ক ফ্রি করে দিয়েছে। অর্থাৎ সোশ্যাল নেটওয়ার্ককে শুধু ব্যবসা বানিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।  বলা বাহূল্য চীনের সামরিক, অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি-পরাক্রম সম্বন্ধে আমরা ভালই অবহিত।

এ লিস্ট কিন্তু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, পাকিস্তান, ইরান, কিউবা, মিডল-ইস্টের কিছু দেশ, উত্তর কোরিয়া এবং আরো অনেক দেশের নাম উল্লেখ করা যায়।

এবার দেখা যাক এ বিষয়ে ইউরোপ, আমেরিকা সহ উন্নত বিশ্বের দেশ গুলোর দৃষ্টিভঙ্গি কী?

যুক্তরাষ্ট্র “নাইন-ইলেভেন” দুর্ঘটনার পর পর “ইউ এস পেট্রিয়ট এক্ট” নামীয় আইন করে, যা দ্বারা তারা পুরো ইউ এস এ জুড়ে যে কোনো ব্যক্তির টেলিফোন, সামাজিক মাধ্যম, ইমেইল, ব্যাঙ্ক একাউন্ট এবং ট্যাক্স পেপার যে কোনো সময় চেক করতে পারবে এবং প্রয়োজনে গ্রেফতার করে তথ্য আদায় করতে পারবে, বিনা বিচারে আটকে রাখতে পারবে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার ক্রাইম এক্ট প্রণিত হয় ১৯৮০এর দশকে, অর্থাৎ ওই সকল পন্ডিত ব্যক্তিরা যারা বিশ্বে ডিজিটাল যুগের সূচনা করে দিয়েছেন, বিশ্ব-বাসীকে পুরো বিশ্ব এনে দিয়েছেন হাতের মুঠোয়, তারা ঠিকই অনূধাবন করেছিলেন, এ মাধ্যম গুলো শুধু ভালো লোকেরা ভাল ভাল সব কাজে ব্যবহার করবে তা নয়, মানবতার দুশমন যারা, সভ্যতার কলংক যারা, যুগে যুগে যারা জন্মেছে বিশ্বকে অস্শান্তির অগ্নি-কুন্ডলীতে পরিনত করতে, তাদের দোসররা হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার কাজেও তা ব্যবহার করবে নিশ্চিত হয়েই “সাইবার ক্রাইম এক্ট” তৈয়ার করে সেই ১৯৮০ সালের দিকে। তাদের সাইবার ক্রাইম এক্ট অনুযায়ী, নেটওয়ার্ক বন্ধ করা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পর্যায়ে গ্রেফতার পর্যন্ত সমস্ত রকম অধিকার সরকারের হাতে রয়েছে। উল্লেখ্য যে, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক নজরদারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকার শত শত অপরাধ দমন করে  এবং অনেক অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই বন্ধ করতে সক্ষম হয়।

  • Ellen S. Podgor , a professor of law at Georgia State University College of Law in Atlanta, Georgia, is coauthor of White Collar Crime: Law & Practice (J. Israel & P. Borman, West, 1996), White Collar Crime in a Nutshell 2d Ed. (J. Israel, West, 1997); and International Criminal Law: Cases and Materials (E. Wise, Lexis 2000).
  • Criminal Justice Magazine, Summer 2002, Volume 17 Issue 2
  • Computer Crimes and the USA PATRIOT Act
  • http://www.justice.gov/sites/default/files/criminal-ccips/legacy/2015/01/14/ccmanual

 

আমেরিকায় পর্নোগ্রাফি, চাইল্ড সেক্স এবিউস ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে হর-হামেশায় গ্রেফতার চলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর, মেয়র,সিনেটর সহ কত লোকজন। নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষিত হয় অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।প্রতিদিন সংবাদ শিরোনাম হয় এসব অপরাধী। বিভিন্ন এয়ারপোর্ট-এ বিশেষ করে ছুটির সময় আর উত্সবের লগ্ন গুলোতে  নাগরিক হয়রানির ঘটনাও অনেক ঘটে এখানে। এককথায়, সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যপারে মোটেই উদাসীন নয়, এবং তারা যা যা করে তা আইন বানিয়ে করে এবং সমগ্র নাগরিকদের কল্যানেই তা করে।  তাদের বুদ্ধিজীবি, আইনজীবী, পেশাজীবী,পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, মেয়র, সিনেটর,কনগ্রেসমেন সকলেই তাতে সমর্থন দেন।  ফলে, এত সমস্যার মাঝেও আমেরিকা ইউরোপে এখনো নাগরিকরা তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট, ব্যক্তিগত তথ্যাদি নিরাপদে সংরক্ষণ করতে পারেন। তাদের সমাজে এখনো ক্রাইম রেট্ সহনশীল পর্যায়ে, যদিও গুটি কয়েক সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেই চলেছে।

 

সেই ১৯৮০র দশক থেকেই ডিজিটাল ক্রাইম এর যাত্রা শুরু, যা দিনকে দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে। কারন একটি ভালো কিছু যখন আবিষ্কার হয়, তখন তার কিছু বাই প্রডাক্ট ও কিন্তু আপনা আপনি সৃষ্টি হয়ে যায়, এবং সমন্তরাল চলতে থাকে। দেশে দেশে সরকার জন নিরাপত্তার জন্য এবং ক্রাইম দমন করার জন্য যদি আইন করে ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া সহ অন্যান্য ডিজিটাল পদ্দতিগুলো বন্ধ করতে পারে, তবে আমাদের দেশে কেন আমরা ফেইসবুক-এর সাময়িক বিরতিতে এত অস্থির। আমরা সত্যিই বড় আবেগপ্রবন জাতি!

 

উপোরক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে চলুন ফিরে দেখি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট: সেদিন বেসরকারী একটি বাংলাদেশী টেলিভিশন চ্যানেলে “টক্ শো” তে দেখতে পেলাম স্বনাম ধন্য কিছু ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশে ফেইসবুক বন্ধ নিয়ে সুগভীর আলোচনায় মগ্ন, আমাদের টেলি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী মহাশয়কে প্রশ্ন করার ফাকে বললেন দেশের “তরুণ সমাজ” এক শ্বাস রুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কারন, সরকার ফেইসবুক বিরতি-তে রেখেছে। আমি তাঁদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্ব্বক বিনীত প্রশ্ন করতে চাই, “স্বাসরুদ্ধকর” শব্দটির সঠিক ব্যবহার বোধহয় এক্ষেত্রে হয় নি?

 

বাংলাদেশ সরকার যদি তথ্যের ভিত্তিতে এবং জন নিরাপত্তার স্বার্থে ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া সহ অন্যান্য ডিজিটাল মিডিয়া গুলোতে সাময়িক বিরতি দেয় আর তাতে যদি গুটিকয়েক মানুষ ও দুর্ঘটনার হাত থেকে কিংবা মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়, তো তরুণ সমাজ তথা আমাদের মাননীয় সূশীল সমাজ, সরকারী দল, বিরোধী দল, আমলা, পেশাজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর সহ সমাজের সকল স্তরের জনগণ খুশি হওয়ার কথা।

 

আমার পেশাগত অভিজ্ঞতার আলোকে শুধু এটুকু বলব, সাইবার ক্রাইম একটি জঘন্য অপরাধ।

ছোট দুটি উদাহরন হলো, আপনার ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড লেনদেন বলে দিবে একট আগে আপনি কোথায় ছিলেন, আপনার মোবাইল ফোন বলে দিবে এ মূহুর্তে আপনি কোথায় অবস্থান করছেন, আপনার ফেইসবুক বলে দিবে আজকে আপনার মেন্টাল অবস্থা কী , আপনার চ্যাট গ্রুপ বলে দিবে আপনি কী ধরনের মানসিকতার ব্যক্তি, ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনি কোথায় রাত্রি যাপন করছেন, সুখনিদ্রায় নাক ডাকছেন তা আপনার সেল ফোন জানান দিয়ে দিবে আপনার শত্রুকে (যদি আদৌ কেউ থাকে !)

ইংরেজিতে “ফুট প্রিন্ট” এবং “রিভার্স ডিসিপশন” নামক দুটো টার্ম ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড এ ভয়ঙ্কর মনস্টারের নাম। সাম্প্রতিক কালে যুক্তরাষ্ট্রে একজন কৃত্রিম হার্ট সংযোজন করার  ১৫ দিনের মাথায় “ডিজিটাল হ্যাক” হয় তার হার্ট, এবং মৃত্যর কোলে ঢলে পড়ে আক্রান্ত ব্যক্তি।

 

মোট কথা, ডিজিটাল যুগে আপনি কোথাও নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারবেন না। আর ঠিক এ কারণেই উন্নত বিশ্বে সাইবার এক্ট গুলো খুবই আক্রমনাত্মক হয়ে থাকে। সাইবার ক্রাইমের এ যুগে সরকার যদি আমাদের দেশে সময় উপযোগী আইন করে ফেলে, তবে সাধারন জনগণ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে বলেই আমার বিশ্বাস। আর শ্রদ্ধেয় বিজ্ঞ সুশীল সমাজ আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, দয়া করে সরকারকে সহায়তা করুন, এগিয়ে আসুন এবং যুব ও তরুণ সমাজকে আপনারাই পারেন আস্বস্ত করতে, তা না হলে এ যুব ও তরুণ সমাজই একদিন আপনাদেরকে খল নায়ক বানিয়ে দেশ ছাড়া করবে। আমরা বাঙালি,বাঙালি চিরদিন আবেগপ্রবন জাতি, তাই বার বার বাঙালি জাত পিছিয়ে পড়ে, কিন্তু আমাদের পিছিয়ে পড়া আর চলবে না।

 

মোঃ শফিউল আলম।

এম বি এ, সি এস এম

প্রিন্সিপাল  সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়র,

ফেডারেল গভর্নমেন্ট, ইউ এস এ

Leave A Reply

Your email address will not be published.