বাংলাদেশী শেফ খলিল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড

195

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের লাইফটাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন বিশিস্ট রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী খলিল বিরিয়ানী হাউসের সত্বাধিকারী শেফ মো. খলিলুর রহমান। গত ১৯ মার্চ শনিবার ১ ইউএন প্লাজায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পক্ষে তার হাতে সার্টিফিকেট এবং পদক তুলে দেন জাতিসংঘে মার্কিন দূত ড.সীমা কাতনায়া।

সম্মাননা প্রদানকালে ড. কাতনায়া বলেন, এটা দেশের একটি সর্বোচ্চ সম্মান জনক পদক। তার হাতে এটি তুলে দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।

মুলত যারা আমেরিকাকে গড়ার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে তাদের এই বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
জানা যায়, শেফ খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হওয়ার পর রেস্টুরেন্টে ডিশ ওয়াশার হিসেবে কাজ শুরু করেন। দেড় বছর ডিশ ওয়াশের কাজ করে পদোন্নতি পান সহকারী শেফ হিসেবে। দেড় বছর পর হন শেফ। শেফের কাজের পাশাপশি নিউইয়র্কের কুলিনারী ইন্সটিটিউট থেকে অর্জন করেন ডিপ্লোমা। এরই মধ্যে ব্রঙ্কসে ছোট্ট পরিসরে গড়ে তোলেন খলিল বিরিয়ানী হাউস নামে ছোট্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এর পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পর্যায়ক্রমে আরও বড় পরিসরে খলিল বিরিয়ানী হাউস, খলিল হালাল চাইনিজ, খলিল পিৎজা অ্যান্ড গ্রীল, খলিল সুইটস, খলিল সুপার মার্কেট গড়ে তুলে অনেক প্রবাসীর কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করেন। তিনি খলিল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশেও অনেক জনহিতকর কাজে অংশ নিচ্ছেন।

শেফ খলিলুর রহমান বাংলাদেশী ঐতিহ্যবাহী খাবার বিরিয়ানী এবং চাইনিজ খাবারে নিজ রেসিপি সংযুক্ত করে স্বাদ ও মানে নতুনত্ব আনেন। তার এসব ভিন্ন স্বাদের খাবারের ঘ্রাণ শুধু প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝেই নয় মুলধারায়ও ছড়িয়ে পড়ে। কংগ্রেসম্যান, সিনেটর, এসেম্বলিম্যান, সিটি কাউন্সিল স্পিকার, সিটি কাউন্সিলমেম্বার, সিটি কম্পট্রোলার সহ মূলধারার রাজনীতিবিদরা খলিল বিরিয়ানীতে এসে বাংলাদেশী ও চাইনিজ খাবারের স্বাদ নেন।

শেফ খলিলুর রহমান গত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তার নামানুসারে “বাইডেন বিরিয়ানী” নামে একটি স্পেশাল বিরিয়ানী চালু করে প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি সহ মুলধারায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হন।
খলিলুর রহমান প্রেসিডেন্সিয়াল লাইফটাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তিতে মিডিয়া কর্মী ছাড়াও কমিউনিটির সকলকে আন্তুরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এতে সকলের অবদান রয়েছে।

তিনি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এর মাধ্যমে কমিউনিটি ও দেশের প্রতি আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেলো। এ অ্যাওয়ার্ড সামনের দিকে এগিয়ে যেতে এবং মানুষের কল্যাণে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে অনেক উৎসাহ যোগাবে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.