বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে অনুমতির বিষয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চায় দুদক

243

সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত দুর্নীতি মামলার আসামি কিংবা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাত্রায় ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে আদালতের অনুমতি লাগবে- হাইকোর্টের এমন রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার আবেদনটি উপস্থাপন এবং আংশিক শুনানি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন চেম্বার আদালতের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৮ মার্চ দিন ধার্য করেন। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আতাউর রহমান নামে এক ব্যক্তির করা রিট আবেদনের ওপর জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১৬ মার্চ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ে বলে, সুনির্দিষ্ট আইন কিংবা বিধি ছাড়া কাউকে বিদেশ যেতে নিষেধ করা সংবিধান ও আইনসম্মত নয়। এ বিষয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো আইন বা বিধি প্রণয়ন না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়ে কাউকে বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা দিতে হলে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, হাইকোর্টের এই রায় স্থগিতের আবেদনের যুক্তিতে বলেছি, এই রায় অযৌক্তিক এবং আইনবহির্ভূত। কারও বিদেশযাত্রা আটকাতে এত দিন আমরা ইমিগ্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে চিঠি দিয়ে শুধু অনুরোধ করতাম। এখন এ নিয়ে বিশেষ আদালতে আবেদন এবং সেটি শুনানি ও নিষ্পত্তি হতে সময়ের সুযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশে চলে যেতে পারেন।

তিনি আরও জানান, আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ২৮ মার্চ ধার্য করেছেন। তবে, হাইকোর্ট শর্ত দিয়েছেন যে এই সময়ে ওই ব্যক্তি (আতাউর রহমান) বিদেশে যেতে পারবেন না।

সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করতে গত বছরের ২৪ আগস্ট রিট আবেদনকারী মো. আতাউর রহমানকে নোটিশ দেয় দুদক। পরে ওই বছরের ২২ অক্টোবর সম্পদের বিবরণী দাখিল করলেও অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় তিনি যাতে বিদেশ যেতে না পারেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর ইমিগ্রেশন পুলিশ সুপারকে (এয়ারপোর্ট) চিঠি দেয় দুদক। এ চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আতাউর রহমান। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ওই চিঠির বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.