বিমানের পাইলটদের অফিস করা বাধ্যতামূলক

24

পাইলটদের অফিস হাজিরা বাধ্যতামূলক করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। উপস্থিতির বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করতে পাইলটদের গেটের সামনের ফেইস আইডি মেশিনে নিজের চেহারা দেখাতে বলা হয়েছে।

রবিবার বিমানের প্রশাসন  শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি হয়। আদেশে স্বাক্ষর করেন বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দীন আহমেদ।

চিঠির অনুলিপি বিমানের সবপরিচালক, মহাব্যবস্থাপক, উপ-মহাব্যবস্থাপক, ব্যবস্থাপক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সব ইনচার্জদের দেওয়া হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালনকারী পাইলটদের ফ্লাইট ডিউটি সম্পন্ন শেষে বেইজে আসার নিয়ম অনুযায়ী বিশ্রাম নিয়ে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে এবং ফেইস আইডি মেশিনের মাধ্যমে হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাইলট বলেন, কর্তন করা বেতন সমন্বয় করা নিয়ে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করেছিলেন পাইলটরা। সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাপার সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান। আর এই কারণে মাস দুয়েক আগে তাকে চাকরিচ্যুত করে বিমান। এখন হাজিরা নিয়মিত করতে চিঠি দিয়েছেন। বিমান প্রশাসন বুঝাতে চাচ্ছেন আমরা নিয়মিত অফিস করছি না। তার ভুলভাবে আমাদের উপস্থাপন করছেন। আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেলে আন্দোলন করা ছাড়া আর উপায় থাকবে না।

তিনি বলেন, করোনাকালীন পাইলটদের বেতন কর্তন করা নিয়ে মূলত বিমানের প্রশাসনে সঙ্গে আমাদের দূরত্ব তৈরি হয়। গত ১৩ জুলাই বিমান কর্তৃপক্ষ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে। কিন্তু পাইলটদের বেতন কাটার বিষয়টি বহাল থাকে। এরপর থেকেই ক্ষুব্ধ হন পাইলটরা। বেতন সমন্বয় না হলে বিমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত ঘণ্টা ফ্লাইট পরিচালনা না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা।

জানা গেছে, আন্দোলনে সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা, আবুধাবি ও দুবাই রুটে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে বিমানের এমডির আশ্বাসে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন পাইলটরা। বেতন সমন্বয় না করায় অক্টোবর মাসে আবারো কর্মবিরতির ডাক দেন তারা। অনিশ্চয়তায় পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইট। বিমানের কোটি কোটি টাকার বিক্রিত টিকিট ফেরত দেন যাত্রীরা। এতে বেশি ক্ষুব্ধ হয় বিমান প্রশাসন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি বিমানের পাইলটদের মধ্যে অফিসের উপস্থিতিতে অনীহা দেখা গেছে। এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে বেতন কর্তন, পরবর্তীতে সমন্বয় না করা নিয়ে পাইলটদের একাধিকবার আল্টিমেটাম দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকবার পাইলটরা প্রয়োজনের সময় ফ্লাইট পরিচালনায় অস্বীতিও জানিয়েছেন। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমান। পাইলটদের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.