সিইসিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

29

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পুমরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রদত্ত ভোটের হিসেবে গরমিল নিয়ে করা একটি রিট মামলার প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ প্রতিপালিত না হওয়ায় রবিবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়।

আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

সিইসি কে এম নূরুল হুদা, ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবির খোন্দকার,  চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ আলম এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আবুল কাশেম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কাশেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাদীর আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় রিটার্নিং কার্যালয় থেকে শুরু করে ইসি কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও তারা আবেদনটি নিষ্পত্তি করেননি। এর প্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।’

বাদীপক্ষে আইনজীবীরা জানান, গত বছরের ২৮ নভেম্বর রাঙ্গুনিয়ায় পুমরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ২ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর (৪৬২ ভোট) কাছে অপর প্রার্থী আহমদ কবির (৪৫১ ভোট) ১১ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। ওয়াডের্র মোট ভোটার সংখ্যা ২১৭৯ জন। ফলাফলে প্রদত্ত ভোট ওয়ার্ডের সদস্যদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ১৪৪৫ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যের (একই ওয়ার্ড) ক্ষেত্রে দেখানো হয় ১৪৭৪ জন।

এতে আপত্তি তুলে ভোটের পুনগণনা চেয়ে গত ২ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়সহ ইসিতে আবেদন করেন আহমদ কবির। তাতে সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন আহমদ কবির। গত ৬ ডিসেম্বর  হাইকোর্ট তার আদেশে ইসিকে আহমদ কবিরের আবেদনটি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে  নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই ওয়ার্ডের ফলাফল স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেয় আদালত।

গত ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টের এই আদেশটি ইসিকে অবহিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। পরে ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের আদেশের অনুলিপি পাঠান তারা। কিন্তু ২৩ ডিসেম্বর ওই ওয়ার্ডের ফলাফলের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করা হয়।

হাইকোর্টের আদেশ প্রাতিপালন না করে গেজেট প্রকাশ করায় ইসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠান রিট মামলার বাদী আহমদ কবির। তাতেও জবাব না পাওয়ায় হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় রবিবার আদালত অবমাননার এ রুল জারি করে হাইকোর্ট।

Leave A Reply

Your email address will not be published.